গরমে শান্তি পেতে যা করতে পারেন

0
219
hot-fashion-summer
মাঝেমধ্যে আকাশের মুখ গোমড়া হলেও গরমের তেজ কমেনি এখনো। মন চায় যেন সুইমিংপুল বা পুকুরের জলে ভিজি। ছোটখাটো কিছু বিষয় মেনে চললে এখন জীবনযাপনে পাওয়া যাবে স্বস্তি।

একদমে এ মাথা থেকে ও মাথা সাঁতরে চলে যাব। যদি এ মুহূর্তে কেউ সুইমিংপুলটা পিচঢালা রাস্তার ওপরে বিছিয়ে দেয়। ভ্যাপসা গরমের সময় দুই ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকলে এমন চিন্তাই ঘুরেফিরে আসে। ভাবনাতেই যেন শান্তি পায় মন।

দৃশ্যপট বদলে যাক। যদি একটু বৃষ্টি হতো। হাত বাড়িয়ে যদি পাওয়া যেত শীতল ছোঁয়া। কিন্তু বৃষ্টি শেষ হলেই যেন রোদ আর গরমের শাসন বেড়ে যায়। রোদ কিংবা বৃষ্টি—মুঠোফোনের অ্যাপে যেটাই দেখাক না কেন, চারপাশের আবহাওয়া এখন বেশ উত্তপ্ত। থাকবে আরও বেশ কিছুদিন। এর মধ্যেই খুঁজে নিতে হবে আরাম আর দুদণ্ড শান্তি!

‘সূর্যের দিকে চাহিয়া দেখিলাম, একটা বিরাট অগ্নিকুণ্ড—ক্যালসিয়াম পুড়িতেছে, হাইড্রোজেন পুড়িতেছে, লোহা পুড়িতেছে, নিকেল পুড়িতেছে, কোবাল্ট পুড়িতেছে—জানা–অজানা শত শত রকমের গ্যাস ও ধাতু কোটি যোজন ব্যাসমুক্ত দীপ্ত ফার্নেসে একসঙ্গে পুড়িতেছে—তারই ধু-ধু আগুনের ঢেউ অসীম শূন্যের ঈথারের স্তর ভেদ করিয়া ফুলকিয়া বইহার ও লোধাইটোলার তৃণভূমিতে বিস্তীর্ণ অরণ্যে আসিয়া লাগিয়া প্রতি তৃণপত্রের শিরা–উপশিরার সব রসটুকু শুকাইয়া ঝামা করিয়া, দিগ্​দিগন্ত ঝল্​সাইয়া পুড়াইয়া শুরু করিয়াছে ধ্বংসের এক তাণ্ডব-লীলা। চাহিয়া দেখিলাম দূরে দূরে প্রান্তরের সর্ব্বত্র কম্পমান তাপ-তরঙ্গে ও তাহার ওধারে তাপজনিত একটি অস্পষ্ট কুয়াশা।’ গরমের সময়ে আমাদের মনের কথাটাই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলে গেছেন আরণ্যক উপন্যাসে।

আবহাওয়া আমাদের জীবনযাপন এমনই কাহিল করে রেখেছে। সারাক্ষণ গরমের চিন্তাটাই মাথায় ঘুরতে থাকে। সঙ্গে নিত্যনতুন যোগ হচ্ছে রোগবালাই। আবহাওয়ার ওপর তো আর হাত নেই কারও, তাই বদলে ফেলতে হবে নিত্যদিনের চলাফেরা। যাঁরা পড়ছেন তাঁরা হয়তো ভাবছেন লেখা যত সহজ, করা ততটা নয়। তবে চেষ্টা করতে দোষ কী?

সকাল শুরু হয়ে যাক গোসল দিয়ে। সময় থাকলে একটু বেশিক্ষণ, না থাকলে তাড়াহুড়োর মধ্যে কাকভেজাই সই। সকালের গরমটা চলে যাবে। সতেজ বোধ হবে মনেও। বাইরে বের হলেই মাথা গরম হয়ে উঠবে না। মাথা গরম থাকলে সেই অনুভূতি কিন্তু ছড়িয়ে পড়ে শরীরেও। দিন শেষে আরেকবার না হয় ঝরনার নিচে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন।

ইউরোপে বা আমেরিকায় গরমের জন্য অপেক্ষা করা হয় সারা বছর। আমাদের দেশে উল্টো। শীতকাল শ্রেষ্ঠ, অনুভূতি বলেন আর ফ্যাশনেবল পোশাক পরার কথাই বলেন। এককথায় তা জানিয়েও দিই আমরা। তবে শীতের সময়েও ইদানীং গরম থাকে। হাড়–কাঁপানো শীত শুধু বইয়ের পাতাতেই যেন সীমাবদ্ধ।

গরমের পোশাক নিয়ে পুরো দুনিয়াতেও চলছে বেশ জল্পনা–কল্পনা। তবে পাশ্চাত্যের গরম আর আমাদের গরমে কিছুটা পার্থক্য আছে। বলা নেই কওয়া নেই হুট করে গরমের মধ্যেই হালকা ঠান্ডা আমেজ অনুভব করা যায়। পোশাকের নকশা আর কাপড়ে এ কারণেই পার্থক্য চলে আসে।

বিস্তারিত পড়ুন রয়া মুনতাসীর এর লেখা থেকে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here