এখনই খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

0
141
pm-ecnec

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আতঙ্কের মধ্যে ২ মাসেরও বেশি সময় বন্ধ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান যে সহসাই খুলছে না, সেই বিষয়টি আবারো স্পষ্ট হলো সরকার প্রধানের বক্তব্যে।

রবিবার (৩১ মে) সকালে গণভবনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আসলে ধাপে-ধাপেই এগোতে চাচ্ছি। যাতে করে এই করোনাভাইরাস দ্বারা আক্রান্তের ঘটনা না ঘটে। কারণ এরা (শিক্ষার্থীরা) আমাদের ভবিষ্যৎ। কাজেই তাদের তো আমি ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না। সে কারণেই এখন আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো উন্মুক্ত করবো না। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারলে, তারপর পর্যায়ক্রমিক ভাবে আমরা সেগুলো তখন উন্মুক্ত করবো।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার জুলাইয়ে খুলতে পারে

একযোগে দেশের সব বোর্ডের ফল প্রকাশের এবারের আনুষ্ঠানিকতা ছিলো কিছুটা ভিন্ন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রী ডা. দীপু মণি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও তাঁর কর্মকর্তাদের নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন। এ সময় গণভবনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সুইচ চেপে মূল ফল প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না; এটা শুধু আমাদের না। সারা পৃথিবী জুড়েই আসলে এই অবস্থা। উন্নত দেশগুলোও এক্ষেত্রে যে অবস্থায় আছে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোও একই অবস্থায় চলে আসতে হয়েছে। এসময় পরিবর্তিত পরিস্থিতি কাজে লাগানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

উবার-পাঠাওসহ সব রাইড শেয়ারিং বন্ধ থাকছে

তিনি বলেন, আমি এই পরিবেশে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করবো, এখন সবাই ঘরে বসে আছেন। সবাইকে এই সময়টায় পড়াশোনাটা চালিয়ে যেতে হবে। যেহেতু এখন স্কুল নেই, সেজন্য স্কুলের বইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিশ্বকে জানার সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। সকলেই বাসায় বসে পড়াশোনা করবে এটাই আমরা আশা করি।

সবকিছু খুলে দেয়া হলেও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, নিজের স্বাস্থ্য সবাইকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধিগুলো অবশ্যই সবাইকে মেনে চলতে হবে। আমরা জানি দীর্ঘদিন সবকিছু বন্ধ ছিলো; একটা কথা মনে রাখতে হবে এভাবে তো আর দেশ চলতে পারে না।

সবকিছু বন্ধের ফলে পৃথিবীর মতো বাংলাদেশও ভুগছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, এখন দেখতে পাচ্ছি, অন্য দেশগুলোও ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক ক্ষেত্র, যাতায়াত, সবকিছুই আসলে উন্মুক্ত করছে। আমরাও সেই পদ্ধতিতে যাচ্ছি। আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছিলাম যে কারণে হয়তো আমরা করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার হার ও মৃত্যু নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি।

গণপরিবহনের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

সুরক্ষিত থাকার প্রচেষ্টা সবক্ষেত্রে সবাইকেই মেনে চলার বাধ্যবাধকতা বজায় রাখতে হবে বলেও জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যেহেতু এখন সবকিছু উন্মুক্ত করছি সেক্ষেত্রে একটু আশঙ্কা থেকে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আমি বলবো, সকলে যদি স্বাস্থ্যবিধিটা যথাযথভাবে মেনে চলেন। এটা শুধু নিজের জন্য না, পরিবার, প্রতিবেশীসহ সবাইকেই রক্ষা করা সম্ভব হবে। সেটাই সবাই মেনে চলবেন বলে আমরা আশা করছি। যাতে সংক্রমণের হারটা আর না বাড়ে।

সরকার সবার কষ্ট লাঘবে সচেতনভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হবে। কেননা মানুষের আয়-উপার্জনের পথ সব বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা সহায়তা হয়তো দিচ্ছি, কিন্তু সীমিত আয়ের মানুষগুলোর খুব কষ্ট হচ্ছে।

সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, নিজের আত্মবিশ্বাসটা সব থেকে বড় ও জরুরি। যে কোনো পরিস্থিতি হোক আমরা মোকাবিলা করতে পারবো। আমি আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের বলবো, এটা আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি। করোনা ভাইরাস কেনো ? এর মধ্যেই আমরা ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলা করেছি। যে কোনো ঝড়-তুফান বা পরিস্থিতি আমরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করবো সবাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here